ঢাকা বৃহস্পতিবার, জুলাই ৭, ২০২২

Popular bangla online news portal

প্রতিটি এলাকাতেই যেন খেলার মাঠ থাকে : প্রধানমন্ত্রী


সংলাপ প্রতিবেদক
৯:১১ - বুধবার, মে ১১, ২০২২
প্রতিটি এলাকাতেই যেন খেলার মাঠ থাকে : প্রধানমন্ত্রী

শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে জাতি গঠনে খেলাধুলা ও শরীর চর্চার বিকল্প নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রতিটি এলাকাতেই যেন খেলার মাঠ থাকে। সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

বুধবার (১১ মে) রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৮৫ জন ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার দেয়া হয়। সময় স্বল্পতার কারণে শুধু ২০২০ সালের পদকজয়ীদের মঞ্চে পদক দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিক্রমে এ পদক দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

তিনি আরও বলেন, বলেছেন, এখন থেকে প্রতিবছর জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার দেয়া হবে। খেলাধুলায় নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকেও সুযোগ করে দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার বিষয়ে আমাদের আরও বেশি উদ্যোগী হওয়া উচিত। যাতে ঢাকা শহরে, সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হলো ঢাকা শহরেই খেলাধুলার জায়গা কম। ইতিমধ্যে আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছি- প্রতিটি এলাকায়ই যেন খেলার মাঠ থাকে। ইতোমধ্যে আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছি, যেখানে খালি জায়গা পাচ্ছি আমরা খেলার মাঠ করে দিচ্ছি।রাজধানীর বাইরে সারা দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়ামও আমরা করে দিচ্ছি। তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার সুবিধায় প্রথম পর্যায়ে দেশের ১২৫টি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ১৮৬টি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে দেশের অবশিষ্ট ১৭১টি উপজেলায় এই করা হবে। দ্রুতই সেগুলো শেষ করা হবে।

সন্তানের বাবা-মা, অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, অন্তত বাবা-মা, অভিভাবক তাদেরকে অনুরোধ করবো কিছু সময়ের জন্য হলেও ছেলেমেয়েরা যাতে হাত-পা ছুঁড়ে খেলতে পারে সেটা আপনাদের উদ্যোগ নেয়া উচিত। আর প্রত্যেকটা এলাকায় খেলার মাঠ থাকা একান্ত ভাবে প্রয়োজন। আমাদের শিশুরা, এখন তো সব ফ্ল্যাটে বাস করে, ফ্ল্যাটে বাস করে করে সেগুলো সেই ফার্মের মুরগির মতোই হয়ে যাচ্ছে। হাঁটা চলা আর এখনো মোবাইল ফোন আর ল্যাপটপ আর আইপ্যাড এগুলো ব্যবহার করে সারাক্ষণ এগুলোর মধ্যে পড়ে থাকা। এটা আসলে মানসিকভাবে, শারীরিকভাবে সুস্থতার লক্ষণ না। খেলাধুলা-দৌড় ঝাঁপের মধ্যে দিয়ে শারীরিক, মানসিক বিকাশ হওয়ার সুযোগ পায়। খেলাধুলা একটা জাতি গঠনে বিশেষ অবদান রাখে বলে আমি বিশ্বাস করি। খেলাধুলা এবং শরীর চর্চার মাধ্যমে শারীরিক-মানসিকভাবেও আমাদের ছেলেমেয়েরা যথেষ্ট উন্নত হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রিয় খেলা ছিল ফুটবল। অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন, আব্বার টিম ও আমার টিমে যখন খেলা হতো তখন জনসাধারণ খুব উপভোগ করত। আমাদের স্কুল টিম খুব ভাল ছিল। মহকুমায় যারা ভালো খেলোয়াড় ছিল, তাদের এনে ভর্তি করতাম এবং বেতন ফ্রি করে দিতাম।

দেশীয় খেলাগুলো আবারও ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের অভ্যন্তরে, আমাদের গ্রামে অনেকগুলো খেলা আছে, এসব গ্রামীণ খেলাগুলো কিছু চালু করা হয়েছে। এগুলো সচল করতে হবে। যেগুলোতেও খুব বেশি খরচও লাগে না। নিজেরা খেলবে, আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতা, আন্তঃকলেজ প্রতিযোগিতা, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা, এই প্রতিযোগিতা যাতে ব্যাপকভাবে চলে সেই ব্যবস্থাটা নিতে হবে। আমরা এ ব্যাপারে যথেষ্ট সহযোগিতা করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে যা যা প্রয়োজন সেটাও আমরা করে দিচ্ছি।

নিয়মিত খেলোয়াড়দের পাশাপাশি অটিস্টিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়দের কৃতিত্বপূর্ণ অর্জনের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, অটিস্টিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়রাও ভালো পারদর্শিতা দেখাচ্ছে। অটিস্টিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়রা সুস্থদের চেয়েও ভালো করছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় অটিস্টিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়রা বিভিন্ন সময়ে স্পেশাল আলিম্পিকে অংশগ্রহণ করে ২১৬টি স্বর্ণ, ১০৯টি রৌপ্য ও ৮৪টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে দেশকে সম্মানিত করেছে। এ বছরের মার্চে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু চার-জাতি ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ভারতকে ৯ উইকেটে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।