ঢাকা সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২

Popular bangla online news portal

কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসের সামনে গুলি, নিহত ২


সংলাপ ডেস্ক
১১:৪৮ - শুক্রবার, জুন ১০, ২০২২
কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসের সামনে গুলি, নিহত ২

ভারতের কলকাতার পার্ক সার্কাসে অবস্থিত বাংলাদেশ উপদূতাবাসের সামনে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১০ জুন) দুপুরে এ ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন। অন্তত ১০ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ার পর হামলাকারী নিজের গলায় গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হন। হামলাকারী ওই পুলিশ সদস্যের নাম- ছোটুপ লেপটা। এদিনই প্রথম তিনি উপদূতাবাসের সামনে আউটপোস্টে নিরাপত্তার দায়িত্বে পালন করতে এসেছিলেন। কলকাতার পুলিশ কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, ছোটুপ হয়তো মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।

বাংলাদেশে উপহাইকমিশনের পাশের রাস্তায় হাইকমিশনের ওই নিরাপত্তা রক্ষী প্রথমে এক স্কুটি আরোহী নারীকে গুলি করে। চালক আহত। পরে ওই কর্মী আরও আট রাউন্ড গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তিনি আত্মঘাতী হন।

আত্মঘাতী ওই পুলিশ কর্মী ঘটনার শুরুতে এক নারী পুলিশ কর্মীকে উপহাইকমিশনের গলিতে খুঁজতে থাকে। খুঁজে না পেয়ে উন্মত্ত হয়ে গুলি চালায় কাছে এসএলআর বন্দুকদের।

তবে কত রাউন্ড গুলি চালিয়েছে ওই পুলিশ কর্মী তা নিয়ে সরকারিভাবে বিবৃতি দেয়নি।

আত্মঘাতী পুলিশ কর্মী চারদিন আগে উপহাইকমিশনের আউটপোস্টে ডিউটিতে জয়েন করেন বলে জানা গেছে। এখনও পর্যন্ত কারও সঠিক পরিচয় পাওয়া যায় নি।

ঘটনার পর কড়েয়া থানার কর্মকর্তাসহ কলকাতা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনা স্থলে যান। জানা গেছে, আত্মঘাতী পুলিশ কর্মী মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অন্তত ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল। প্রথমে ওই পুলিশকর্মী রাস্তায় থাকা গাড়িগুলোতে গুলি চালাতে শুরু করে। সেই সময়ে এক মহিলা সেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এক বাইক চালকও গুরুতর আহত হন।

এরপর রাস্তাতেই নিজের সার্ভিস রাইফেল থেকে গুলি করে আত্মঘাতী হন ওই পুলিশ কর্মী। হঠাৎ কেন ওই পুলিশ কর্মী এ কাজ করলেন, তা স্পষ্ট নয়। মানসিক চাপ না এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।

আত্মঘাতী ওই পুলিশ কর্মী ও নিহত ওই নারীর পরিচয় সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ এসে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। মৃত পুলিশ কর্মীর রাইফেলটিও উদ্ধার হয়েছে। তবে ঘটনার জেরে এলাকায় প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। কলকাতা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন।

নিহত ওই নারীর নাম রিমা সিং। তিনি হাওড়ার দাশনগরের বাসিন্দা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ভারতীয় পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, একজন নারীর অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। এছাড়া আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা হচ্ছে। তবে তাদের অবস্থা অনেকটা ভালো।

তিনি আরও বলেন, মৃত ছোটুপ লেপটা ফিফট ব্যাটেলিয়নের কনস্টেবল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছেন তিনি। প্রাথমিকভাবে এটা জানতে পেরেছি। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। ওই কনস্টেবল অবসাদে ভুগছিলেন বলে মনে করছেন তিনি।