ঢাকা সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২

Popular bangla online news portal

নোয়াখালী প্রেসক্লাব নির্বাচন নিয়ে কেন এত তালবাহানা?


সংলাপ ডেস্ক
১০:০০ - বৃহস্পতিবার, জুন ২৩, ২০২২
নোয়াখালী প্রেসক্লাব নির্বাচন নিয়ে কেন এত তালবাহানা?

আজ ২৩ জুন ২০২২। ১৯৭২ সালের এই দিনে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন গণপ্রজান্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। শক্তিশালী ও অর্থবোধক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করাই ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন। সেই লক্ষ্যে তিনি গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করতে পদক্ষেপ নেন। জাতির জনকের হাতের স্পর্শে গড়ে উঠা নোয়াখালী প্রেসক্লাব যেখানে সাংবাদিকদের কল্যাণে ব্যবহার হওয়ার কথা, সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে এই ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাবটি একটি চক্রের কারণে নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। ফলে অবহেলিত হচ্ছেন সাংবাদিকরা।

কন্ঠে স্বাধীন সাংবাদিকতার স্লোগান থাকলেও জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের একটি গ্রুপ চেয়েছিল নোয়াখালী প্রেসক্লাব তাদের ২০/২২ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকুক। সেই মর্মে তারা কর্মকান্ড জোরদার রাখার চেষ্টাও অব্যাহত রাখে। কিন্তু প্রেসক্লাবের সদস্য ও সুবিধা বঞ্চিত বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক তা মেনে নিতে পারেননি। তাই জেলায় কর্মরত পেশাদার সকল সাংবাদিকদের সদস্য করে প্রেসক্লাবের নির্বাচন দেওয়ার দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন। এই আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে।

এক পর্যায়ে নোয়াখালী প্রেসক্লাব নির্বাচন নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা হয়। ওই মামলায় মহামান্য হাইকোর্ট পিটিশন নং-২৬৮৪/২০১৭ এর আদেশে জেলা প্রশাসক নোয়াখালীকে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়। ওই আদেশমূলে ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারী নোয়াখালীর বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অফিস আদেশে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহবায়ক ও জেলার চারজন সিনিয়র সাংবাদিককে সদস্য করে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের পাঁচ সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়।

শুরু হয় নোয়াখালী প্রেসক্লাব নির্বাচন প্রক্রিয়া। জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে একাধিকবার মত বিনিয়ময় সভায় আলোচনা শেষে প্রেসক্লাবের সদস্য অন্তভুক্ত করার লক্ষ্যে আবেদন আহবান করা হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আহবানে ১০১জন সাংবাদিক নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদনপত্র জমা দেন। আবেদনপত্রগুলো ব্যাপক যাচাই-বাচাই শেষে ২০২০ সালের ২৪ অক্টোবর নোয়াখালী প্রেসক্লাবের ৮৩ সদস্যের চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো- ২০১৭-১৮, ২০১৯-২০ সর্বশেষ ২০২১-২২ সালে এসেও এখনো প্রেসক্লাবের নির্বাচন শেষ করতে পারেননি জেলা প্রশাসক। শুধুই আশার বাণী!

সাংবাদিকদের প্রশ্ন বঙ্গবন্ধুর স্পর্শে লালিত এই প্রেসক্লাবের নির্বাচন নিয়ে কেন এত তালবাহানা? কবে সাংবাদিকরা নোয়াখালী প্রেসক্লাবে তাদের অধিকার ফিরে পাবে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন নোয়াখালী প্রেসক্লাব বর্তমানে গুটি কয়েক তেলবাজ সাংবাদিকের কব্জায় বন্ধি। আবার গুণজন রয়েছে, সাংবাদিকদের ঐক্য ফিরে আসলে ক্ষমতাশীন রাজনৈতিক দলের এক নেতা তার কর্তৃত্ব জাহিল করতে পারবেন না বলে তিনিও চান না নোয়াখালী প্রেসক্লাবের নির্বাচন হোক। তাই তিনি জেলা প্রশাসককে চাপ প্রয়োগ করেন। যদিও কথাটির প্রকাশ্যে কোন ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তাহলে প্রশ্ন হলো- জেলা প্রশাসক কেন নোয়াখালী প্রেসক্লাব নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারছেন না?

এদিকে গত কয়েক বছর নোয়াখালী প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব নির্বাচিত না হওয়ায় এর আয়-ব্যয়ের কোন জবাবদিহিতাও নেই। যে যেভাবে পারছে, সে সেভাবে লুটে খাচ্ছে! এই হলো গৌরবের নোয়াখালী প্রেসক্লাবের চিত্র।

‘অবিলম্বে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন করে সাংবাদিকদের সংগঠন সাংবাদিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক’।

লেখক-
সাংবাদিক মোহাম্মদ সোহেল
সদস্য, নোয়াখালী প্রেসক্লাব