ঢাকা বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৮, ২০২২

Popular bangla online news portal

নোয়াখালীতে ‘বিদ্যুৎ এখন আর যায় না, মাঝে মাঝে আসে!’


মোহাম্মদ সোহেল, সংবাদ সংলাপ
১৩:২১ - মঙ্গলবার, জুলাই ৫, ২০২২
নোয়াখালীতে ‘বিদ্যুৎ এখন আর যায় না, মাঝে মাঝে আসে!’

নোয়াখালীর শহর-গ্রাম সর্বত্ব চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং। তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে ভুক্তভোগীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন ‘বিদ্যুৎ এখন আর যায় না, মাঝে মাঝে আসে!’।

পয়লা জুলাই থেকে বিদ্যুতের এমন নাজুক পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। আধাঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। তাই দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ মিলছে গড়ে মাত্র ১২ ঘণ্টা! ঠিক কবে নাগাদ বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তারও সদুত্তর দিতে পারছে না বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ বিভাগ। আষাঢ়ের তীব্র রোদ আর গরমের দাপটে জনজীবনে যখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা তখন মিলছে না বিদ্যুৎ। অস্বাভাবিক ও অসহনীয় লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকার দলীয় নেতাকর্মীদেরও নাভিশ্বাস উঠেছে। নাকাল হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

সবার মুখে একই কথা- এমন বিদ্যুৎ সংকট এর আগে কখনও দেখেননি কেউ। যতই দিন যাচ্ছে বিদ্যুৎ সংকট ততই যেন বাড়ছে। সরকারের দেওয়া শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা যেন হাস্যকরে পরিনত হয়েছে।

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অফিস-আদালতের কার্যক্রম পরিচালনায় চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। জেনারেটর, আইপিএস ও ইউপিএস কোনো কিছু দিয়েই অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, দোকানপাট ও বাসাবাড়ি স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। পচতে শুরু করেছে বাড়ির ফ্রিজের মাছ-মাংস, শাক-সবজি ও ফলমূল। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায়ও বিদ্যুতের চরম প্রভাব পড়ছে।

ভোর নেই, সকাল নেই, দুপুর নেই, সন্ধ্যা নেই, রাত নেই- বিদ্যুতের আসা-যাওয়া চলছে প্রতি আধাঘণ্টা পর পর। কোনো কোনো এলাকায় ১০-২০ মিনিট পরপরও লোডশেডিং দিচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড নোয়াখালী সুত্রে জানা গেছে, তাদের মাইজদী সাব-স্টেশন এবং দত্তেরহাট সাব- স্টেশনের আওতাধীন গ্রাহকদের বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে ২৭ মেগাওয়াট। যথারীতি তাদের দুটি সাব-স্টেশনের জন্য ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হলেও সাম্প্রতিক ওই বরাদ্ধ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১৩ মেগাওয়াট। এতে লোডশেডিংয়ের মাত্র বৃদ্ধি পেয়েছে।

নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সুত্রে জানা গেছে, জেলার নয়টি উপজেলায় তাদের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে ১৫২ মেগাওয়াট। কিন্তু এই ১৫২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তাই এলাকা ভিত্তিক লোডশেডিং দিয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার মান্নান নগর এলাকার আবু বক্কর ছিদ্দিক নামে একজন তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বিদ্যুৎ এখন আর যায় না, মাঝে মাঝে আসে!’। বিদ্যুতের এমন ভেলকিবাজি নোয়াখালীবাসী গত একযুগেও দেখেনি। সরকারের দেওয়া শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা যেন হাস্যকর।

নোয়াখালী পৌরসভার কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা ফখরুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, বিদ্যুতের এই নাজুক অবস্থা আর মেনে নেওয়া যায় না। তীব্র লোডশেডিংয়ের বিরুদ্ধে আমরা শীঘ্রই মানববন্ধন করবো।

সাংবাদিক ইমাম উদ্দিন আজাদ বলেন, সরকার শতভাগ বিদ্যুতের ঘোষণা দিলেও প্রকৃত পক্ষে দিনের অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ থাকেনা। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অফিস-আদালতের দাপ্তরিক কাজেও সমস্য পোহাতে হচ্ছে। সরকারের ইমেজ ধরে রাখতে হলে বিদ্যুতের এই সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।

গত এক সপ্তাহ ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট নোয়াখালীর হাজার হাজার মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন। মঙ্গলবার বিকালে এই প্রতিবেদন লেখাকালীন সময়ে নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে লোডশেডিং হয়েছে তিন বার।
নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, আমাদের চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ পাচ্ছি মাত্র অর্ধেক। আমরা যতটুকু বিদ্যুৎ পায়, তা বিতরণ করছি। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পেলে লোডশেডিং থাকবে না।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিন বলেন, আমাদের দুটি সাব-স্টেশনের গ্রাহকদের ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার ক্ষেত্রে আমরা লোড পেতাম ১৫ মেগাওয়াট। এখন সেই লোড কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তাই লোডশেডিংয়ের মাত্রা একটু বেড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পেলে এ সমস্যা থাকবে না। বিদ্যুতের এ সমস্যা উত্তোরণে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।