ঢাকা সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২

Popular bangla online news portal

নেতৃত্ব শূন্য নোয়াখালী ছাত্রলীগ! তৃণমূলে হতাশা


মোহাম্মদ সোহেল, সংবাদ সংলাপ
১৩:২২ - সোমবার, জুলাই ২৫, ২০২২
নেতৃত্ব শূন্য নোয়াখালী ছাত্রলীগ! তৃণমূলে হতাশা

বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভূমিকা গৌরবময় ও প্রশংসার। নোয়াখালীতেও এর ব্যতিক্রম নয়। এক সময়ের বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী ২০০৯ সাল পরবর্তী গড়ে ওঠে আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে। আওয়ামী লীগের এই অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল ছাত্রলীগের।

গত ১৪ মে (শনিবার) রাতে নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পর গত ২ মাস ১০ দিন আওয়ামী লীগের আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রপ্রতীক সেই ছাত্রলীগ আজ নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়েছে। শুধু জেলা ছাত্রলীগ নয়, জেলার সদর উপজেলা, নোয়াখালী পৌরসভা, নোয়াখালী সরকারি কলেজ ও সোনাপুর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটিও বিলুপ্ত হয়েছে। এতে তৃণমূলে দেখা দিয়েছে হতাশা।

নোয়াখালী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানান, নোয়াখালী শহরের সকল আন্দোলন-সংগ্রাম ও দলীয় কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের অংশগ্রহন ছিল উৎসবমূখর-প্রাণবন্ত। গত ১৪ মে (শনিবার) রাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একটি প্রতিনিধি দল গত ২২ মে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য ছাত্রলীগের কর্মীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করেন। কিন্তু অদ্যবধি জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজ ছাত্রলীগের কোন কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়নি। যার কারণে জেলায় ক্রমেই ছাত্রলীগের নেতৃত্ব ঝিমিয়ে পড়ছে।

এরআগে মেয়াদ উর্ত্তীণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান আরমান ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত আরমান গত ১২ মে বৃহস্পতিবার এক বছরের জন্য নোয়াখালী সদর উপজেলা ছাত্রলীগ ও নোয়াখালী পৌরসভা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি এবং ৩ মাসের জন্য নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ ও সোনাপুর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়। ওই কমিটি অনুমোদনকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ১৩ মে শুক্রবার বিকালে জেলা শহর মাইজদীতে জুতা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরের দিন ১৪ মে জেলা ছাত্রলীগের কমিটিসহ সদর উপজেলা, নোয়াখালী পৌরসভা, নোয়াখালী সরকারি কলেজ ও সোনাপুর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগের একাধিক কর্মী (নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেলা ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান আরমান ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত আদনান নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হওয়ায় তাদের নেতৃত্ব অনেকেই মেনে নিতে চাইনি। তাই এখানে ছাত্রলীগের রাজনীতি অতীতের চেয়ে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে ২০১৯ সালে জেলার হেডকোয়াটার সদর উপজেলা, নোয়াখালী পৌরসভা ও নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এতে করে জেলায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ভাটা পড়ে। সুদক্ষ নেতৃত্বের অভাবে ক্ষোভ তৈরী হয় তৃণমূলে। দলীয় কর্মসূচিতে আগের মত এখন আর ছাত্রলীগের গর্জন শুনা যায় না।

জেলায় ছাত্রলীগের নেতৃত্বকে আরো গতিশীল করতে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত, আওয়ামী পরিবারের যোগ্য ও মেধাবী ছাত্রলীগ কর্মীদের দিয়ে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেওয়ার দাবি জানান তৃণমূল কর্মীরা।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী আরিফুর রহমান ফয়সাল বলেন, বর্তমানে নোয়াখালী জেলা, সদর উপজেলা, নোয়াখালী পৌরসভা, নোয়াখালী সরকারি কলেজ ও সোনাপুর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের কোন কমিটি নাই। ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলো এভাবে নেতৃত্ব শূন্য থাকলে আগামীর আন্দোলন-সংগ্রামে কর্মী খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই শীঘ্রই জেলার এসব গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদ দেওয়া প্রয়োজন।

জেলা ছাত্রলীগের আরেক সভাপতি পদপ্রার্থী রুবাইয়াত রহমান আরাফাত বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। এমন একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের জেলা ইউনিটের কমিটি না থাকায় এখানে সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হচ্ছে। সামনে শোকের মাস আগস্ট এবং জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। তাই দলীয় কর্মসূচী সুশৃঙ্খলভাবে সফল করতে ছাত্রলীগকে সাংগঠনিকভাবে আরো শক্তিশালী করতে হবে। আর এজন্য জেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদনের বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সম্পাদক নুর উদ্দিন জিকো বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নির্দেশে নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য ছাত্রলীগের কর্মীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করেছি। এখন তাদের জীবনবৃত্তান্তগুলো যাচাই-বাচাই করছি। খুব শীঘ্রই ওই জেলায় ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন বলেন, জেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদনের জন্য আমরা কয়েকজনের নাম প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আমরা চায়, সকলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে জেলা হেডকোয়াটরে অবস্থানরত আওয়ামী পরিবারের সক্রিয় ত্যাগী, যোগ্য ও মেধাবী ছাত্রলীগ কর্মীদের দিয়েই ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হোক। তাহলেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ফিরে আসবে। বাস্তবায়িত হবে দলের আর্দশিক সকল কর্মসূচি।