ঢাকা সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২

Popular bangla online news portal

জুমার দিনের কিছু সুন্নাত আমল


সংলাপ ডেস্ক
৪:৩৮ - শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২২
জুমার দিনের কিছু সুন্নাত আমল

শুক্রবার সপ্তাহের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বার। সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ দিন। এই দিনের ফজিলত সম্পর্কে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) হাদিসে বলেন, ‘জুমার দিন সপ্তাহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০৮৪)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়াছে। এই দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনে তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৮৫৪)

শুক্রবারে কী কী আমল করা সুন্নাত তা বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে কিছু আমল ধারাবাহিক উল্লেখ করা হচ্ছে- 

এক. গোসল করা। 

দুই. উত্তম পোশাক পরিধান করা। 

তিন. সুগন্ধি ব্যবহার করা। 

চার. মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শোনা।

এই চারটি আমলের কথা একসঙ্গে একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন- 

যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে উত্তম পোশাক পরিধান করবে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে, যদি তার নিকট থাকে। তারপর জুমার নামাজে আসে এবং অন্য মুসল্লিদের গায়ের ওপর দিয়ে টপকে সামনের দিকে না যায়। নির্ধারিত নামাজ আদায় করে। তারপর ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার পর থেকে সালাম পর্যন্ত চুপ করে থাকে। তাহলে তার এই আমল পূর্ববর্তী জুমার দিন থেকে পরের জুমা পর্যন্ত সব সগিরা গুনাহর জন্য কাফ্ফারা হবে।-(আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৩)

হাদিসে জুমার দিনের ছয়টি সুন্নাতের আলোচনা করা হয়েছে। সুন্নাতগুলো হলো-

(১) ভালোভাবে গোসল করা। প্রতিদিনের গোসল আর জুমার দিনের গোসল এক নয়। জুমার দিন গোসল করার সময় সুন্নাত পালনের নিয়ত করতে হবে এবং সওয়াবের আশা রাখতে হবে। হাদিসে ভালোভাবে গোসল করার কথা বলা হয়েছে। শরীর নাপাক হয়ে গেলে যেমনিভাবে খুব ভালোভাবে গোসল করা হয় যেন শরীরের প্রতিটি অংশে পানি পৌঁছে যায়, ঠিক তেমনিভাবে জুমার দিনও ভালোভাবে গোসল করে নেবে।

(২) আগে আগে মসজিদে গমন করা। জুমার দিন সাধারণত অফিস-আদালত, দোকান-পাট বন্ধ থাকে। মানুষ অবসরই থাকে। তাই আগে আগে মসজিদে চলে যাওয়া চাই। অপর এক হাদিসে জুমার দিন আগে আগে মসজিদে যাওয়ার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি গোসল ফরজ হলে যেভাবে গোসল করে জুমার দিন ঠিক সেভাবে ভালো করে গোসল করে অতঃপর সর্বপ্রথম মসজিদে গমন করে, সে একটি উট সদকা করার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে। এরপর দ্বিতীয়তে যে মসজিদে গমন করবে সে একটি গরু আল্লাহর রাস্তায় সদকা করার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে। তৃতীয়তে যে গমন করবে সে একটি বকরি আল্লাহর রাস্তায় সদকা করার সওয়াব লাভ করবে। চতুর্থতে যে গমন করবে সে একটি মুরগি সদকা করার সওয়াব লাভ করবে। এরপর পঞ্চম নম্বরে যে প্রবেশ করবে সে একটি ডিম সদকা করার সওয়াব লাভ করবে। (সহিহ বুখারী : ৮৮১)।

(৩) হেঁটে হেঁটে মসজিদে যাবো, কোনো বাহনে আরোহণ করবো না। জুমার নামাজের জন্য কোনো বাহনে আরোহণ না করে হেঁটে হেঁটে মসজিদে যাওয়া সুন্নাত। বিশেষ কোনো ওজর না থাকলে এ সুন্নাত ত্যাগ করবো না।

(৪) ইমামের কাছাকাছি বসবো। আগে আগে মসজিদে গেলে ইমামের কাছাকাছি বসার সুযোগ পাওয়া যায়। তো ইমামের কাছাকাছি বসাও সুন্নাত।

(৫) মনোযোগসহ খুতবা শুনতে হবে। মনে রাখতে হবে, জুমার খুতবা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শুক্রবারে জোহরের সময় জুমার নামাজ পড়ি। যোহর পড়ি চার রাকাত কিন্তু জুমা পড়ি দুই রাকাত। জুমার খুতবা দিতে হয় বলে দুই রাকাত নামাজ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। তো জুমার খুতবা দুই রাকাত নামাজের মর্যাদা রাখে। তাই জুমার খুতবা প্রদান করাও ওয়াজিব, শ্রবণ করাও ওয়াজিব। আমরা জুমার খুতবা খুব মনোযোগসহ শ্রবণ করব।

(৬) অনর্থক কোনো কথাবার্তা বা কার্যকলাপে লিপ্ত হবে না। মসজিদে এসে নীরবে ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকবো। কোনো অনর্থক কথা বলবো না। অনর্থক কোনো কাজও করবো না। মসজিদে দ্বীনি কথা বলা যাবে। কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির করবো। অপ্রয়োজনীয় কোনো কথা বলবো না।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে জুমার দিন যথাযথভাবে সুন্নাতি আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।