ঢাকা শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২

Popular bangla online news portal

স্কুল ছাত্রী অদিতা হত্যা : ‘আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে ওরা'


সংলাপ প্রতিবেদক
১০:০৩ - শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২
স্কুল ছাত্রী অদিতা হত্যা : ‘আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে ওরা'

নোয়াখালীতে স্কুল ছাত্রী তাসমিয়া হোসেন অদিতি (১৪) ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রীর মা। আর্তনাদ করতে করতে অদিতির মা বলেন, ‘ও মারে, তুই আমার বুকে আয়।  তোমরা আমার মেয়েকে আমার বুকে ফিরিয়ে এনে দাও না। আমার মেয়েকে ওরা দুপুরে ভাতও খেতে  দেয়নি। আমার মেয়ে শখ করে ইলিশ মাছ রান্না করছে। সেই মাছও আমার মেয়ে খেতে পারেনি। আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে ওরা।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী জেলা শহরের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ওই স্কুলছাত্রীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত স্কুলছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, তার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মো. সাঈদ (২০) নামের এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার বেলা ১১টায় নিহত ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, মেয়ের শোকে শয্যাশায়ী মায়ের কান্না কিছুতেই থামছে না। আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশীরা তাকে সান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বিলাপ করে ছাত্রীর মা বলেছিলেন, ‘আমার কী অপরাধ! তারা কেন আমার মেয়েকে এভাবে নৃশংসভাবে  মেরে ফেলল। আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার ব্যাপারে এলাকার সবাইকে বলেছি, কেউ আমার কথা  শোনেননি। কেউ উত্ত্যক্তকারীদের বিচার করেননি। তারা যদি সময়মতো বিচার করতেন, তাহলে আজ আমার মেয়েকে এভাবে অকালে জীবন দিতে হতো না। আমি আমার মেয়েকে ছাড়া কীভাবে বাঁচব! কী নিয়ে থাকব!’

নিহত স্কুলছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলপডুয়া মেয়েকে বাসায় রেখে নিজ কর্মস্থলে যান ওই ওই ছাত্রীর মা। সন্ধ্যায় তিনি বাসায় ফিরে দেখেন দরজায় তালা ঝুলছে। পরে নিজের কাছে থাকা চাবি দিয়ে দরজা খুলতেই দেখেন, কক্ষের ভেতর জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। এ সময় ভেতরের একটি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। পরে বাইরে গিয়ে জানালা দিয়ে দেখেন, ওই কক্ষের ভেতর তার মেয়ের গলাকাটা লাশ পড়ে আছে।

এ সময় নিহত ছাত্রীর মায়ের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে দরজা ভেঙে ওই ছাত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে সুধারাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। কিছুক্ষণ পর জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলামসহ পিবিআই, সিআইডি ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

ওই ছাত্রীর মা বলেন, ২০১২ সালে তার স্বামী মারা গেছেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চালাতেন। এর মধ্যে বড় মেয়ে শরীরিক প্রতিবন্ধী। সে ঢাকা থাকেন।  ছোট মেয়েকে নিয়ে তিনি নোয়াখালী শহরে থাকেন। সকালে তিনি কর্মস্থলে যান এবং সন্ধ্যায় বাসায় ফিরতেন। পড়াশোনার ফাঁকে ওই ছাত্রী ঘরের সব কাজ করত।
নিহত ছাত্রীর মামা বলেন, তার ভাগনিকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। তিনি এই নৃশংস হত্যকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

ওই ছাত্রীর মৃত্যুর খবর শুনে তার সহপাঠী ও অভিভাবকেরাও ছাত্রীর বাড়িতে ভিড় করেছেন। সহপাঠীরা বলেন, তাদের সহপাঠী ওই ছাত্রী অত্যন্ত শান্ত ও মিশুক প্রকৃতির ছিল। পড়াশোনাতেও সে ভালো ছিল। তাদের অনেক ভালো সখ্য ছিল। এসব কথা বলতেই কেঁদে ফেলে তারা।

জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মো. সাঈদ (২০) নামের এক তরুণকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া রাতে আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায়  নেওয়া হয়েছে।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনাটি তারা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। শিগগিরই তদন্তের অগ্রগতি জানা যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

এদিকে, স্কুল ছাত্রী অদিতি হত্যার ঘটনায় আসামী পক্ষে কোন আইনজীবি লড়বেননা বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের বিজ্ঞ আইনজীবি শিহাব উদ্দিন শাহীন। তিনি শুক্রবার দুপুরে নিহত অদিতির পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দিতে গিয়ে এ ঘোষণা দেন। শাহীন বলেন, আমাদের এই এলাকার মেধাবী ও সম্ভাবনাময় স্কুল ছাত্রী অদিতিকে অন্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেছে। হত্যা ঘটনা প্রায় উন্মোচিত হয়ে গেছে। আমি জেলা আইনজীবি সমিতির বর্তমান এবং সাবেক সকল নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেছি। অদিতি হত্যার কোন আসামির পক্ষে নোয়াখালী জেলা জজ কোর্টের কোন আইজীবি লড়বেননা। আমিসহ আমাদের সিনিয়র আইনজীবিরা ভিকটিমের পক্ষে আদালতে লড়বো। আমরা চাই অদিতি হত্যার সকল আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।

স্কুল ছাত্রী অদিতি হত্যার ঘটনায় জেলা জুড়ে নিন্দার জড় ওঠেছে। সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়কে অদিতি হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।