ঢাকা শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২

Popular bangla online news portal

স্কুল ছাত্রী অদিতা হত্যা : ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল নোয়াখালী


মোহাম্মদ সোহেল, সংবাদ সংলাপ
১২:৫২ - শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২
স্কুল ছাত্রী অদিতা হত্যা : ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল নোয়াখালী

ধর্ষণের পর অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী তাসমিয়া হোসেন অদিতাকে জবাই ও হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সভা-সমাবেশে উত্তাল হয়ে উঠেছে সমগ্র নোয়াখালী।

শনিবার দুপুরে এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর জেলা শহর মাইদীর নোয়াখালী প্রেসক্লাব, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সড়ক, আবদুল মালেক উকিল প্রধান সড়ক,  মাইজদী বাজার, বেগমগঞ্জের চৌমুহনী চৌরাস্তাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সভা-সমাবেশ করে অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকরা। এতে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষও অংশ নেয়।

নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। নিহত অদিতা নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী শহরের নিজ বাড়ি থেকে স্কুলছাত্রী অদিতার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত অদিতার মায়ের অভিযোগ, তার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অদিতার গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম ওরফে রনিসহ তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে। পুলিশের দাবি, আবদুর রহিমই ওই ছাত্রীকে হত্যা করেছেন। বাকি দুইজন অদিতাকে বিভিন্ন সময়ে উত্যাক্ত করতো।

বিক্ষোভ সমাবেশে নোয়াখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারহানা আবেদিন বলেন, এতদিন আমরা মেয়েদের বলতাম, তোমরা ঘরের বাইরে যেয়ো না, বিদ্যালয়ের আঙিনার বাইরে যেয়ো না। কিন্তু আজ আমাদের মেয়ে তার নিজের ঘরেই নৃশংসভাবে খুন হয়েছে। আমাদের মেয়েরা আজ নিজের ঘরেও নিরাপদ নয়। সমাবেশে কান্নায় ভেঙে পড়েন অদিতার স্কুলের শিক্ষকরা।

শারমীন আক্তার নামের এক অভিভাবক বলেন, শহরের প্রাণকেন্দ্রে নিজ বাসায় অদিতাকে নৃশংস খুনের মধ্য দিয়ে স্কুলপড়–য়া মেয়েরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। অভিভাবকেরাও তাদের নিয়ে আতঙ্কিত। একা ঘরের মধ্যে  রেখে গেলে কখন কোন অঘটন ঘটে। খুনের ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

নিহত অদিতার সহপাঠীরা বলেন, তাদের সহপাঠীকে হত্যার ঘটনা শোনার পর থেকে তারা সবাই আতঙ্কে আছে। কারণ, এতদিন ঘরের বাইরে পথে-ঘাটে নানাভাবে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা হতো। এখন ঘরে ঢুকে দিনের বেলায় তাদের একজন সহপাঠীকে খুন করা হলো। তার ওপর অত্যাচার করা হলো। তারা এটা  কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। অবিলম্বে তাদের সহপাঠীর ধর্ষক ও খুনিদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবি জানান তারা।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি নোয়াখালী সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ও হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল আলিম বলেন, আমরা প্রত্যেকেই যার যার জায়গায় দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোথাও কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখলে দাঁড়াতে হবে এবং সমাধান করতে হবে। কিশোরগ্যাং গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং অদিতা হত্যাকারীদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।  

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, স্কুলছাত্রী অদিতাকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এরমধ্যে তার গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম ওরফে রনি প্রধান অভিযুক্ত। বাকি দুজন উত্ত্যক্তের ঘটনায় অভিযুক্ত। আবদুর রহিমকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

উলেখ্য, গত বৃহষ্পতিবার বিকেলে জেলা শহর মাইজদীতে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসমিয়া হোসেন অদিতাকে (১৪) ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা করা হয়। নিহত শিক্ষার্থীর মৃতদেহ উদ্ধারের পরপর পুলিশের একাধিক দল পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনি (২০), ইসরাফিল (১৪), তার ভাই সাঈদকে (২০) গ্রেফতার করে। শুক্রবার আদালত রনির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।