ঢাকা শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২

Popular bangla online news portal

‘কাগজের দাম দ্বিগুণ’: পত্রিকা প্রকাশে চ্যালেঞ্জের মুখে প্রকাশকরা


সংলাপ প্রতিবেদক
১১:৫০ - সোমবার, নভেম্বর ১৪, ২০২২
‘কাগজের দাম দ্বিগুণ’: পত্রিকা প্রকাশে চ্যালেঞ্জের মুখে প্রকাশকরা

করোনার পৌনে তিন বছরে সৃষ্ট সমস্যা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই কাগজের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে প্রকাশনা শিল্পকে। বিশেষ করে কাগজের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় নোয়াখালীর স্থানীয় পত্রিকার প্রকাশকরা বেকায়দায় পড়েছেন। শুধু কাগজ নয়, কালি ও প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক জিনিসের দামও  বেড়েছে।

জেলা থেকে প্রকাশিত স্থানীয় পত্রিকার প্রকাশ ও সম্পাদকরা জানিয়েছেন, কাগজের দাম বাড়লেও বাড়াতে পারেননি পত্রিকার দাম। প্রিন্ট পত্রিকা এমন একটি দলিল যা যুগ যুগ ধরে সংরক্ষন করে রাখা যায়। কাগজের দাম বাড়াঁয় বর্তমানে প্রিন্ট পত্রিকা প্রকাশনা হুমকির মূখে পড়েছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রিন্ট পত্রিকার জায়গা দখল করে নিচ্ছে অনলাইন পত্রিকা। এতে পাঠক হারাতে বসেছে প্রিন্ট পত্রিকা। একদিকে পাঠক সংকট, অন্যদিকে কাগজের দাম বৃদ্ধি। এই দু’য়ের যাতাকলে পড়েছে প্রিন্ট পত্রিকার প্রকাশনা। স্বল্প মূল্যের পত্রিকার যেখানে পাঠক দিন দিন কমছে, সেই ক্ষেত্রে কাগজের দামের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পত্রিকার দাম বাড়াতে গেলে পাঠক খুঁজে পাওয়াটা কষ্টকর হয়ে পড়বে।

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক এক সম্পাদক বলেন, চলমান যুদ্ধ ও ডলারের দাম বৃদ্ধির কথা বলা হলেও তাতে কাগজের এতটা দাম বাড়ার কথা নয়। এখানে কাগজ শিল্পের মিলগুলোর মালিকরা সিন্ডিকেট করে কাগজের দাম বাড়িয়েছেন। অপরদিকে কালির দাম বৃদ্ধির কারণে বাড়ানো হয়েছে ছাপা খরচ। তাই পত্রিকা প্রকাশে সংকট মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

দৈনিক নোয়াখালী বার্তা’র সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অহিদ উদ্দিন মুকুল বলেন, কাগজ ও ছাপা খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমরা নিয়মিত পত্রিকা প্রকাশ করতে পারছিনা। কোন মতে পত্রিকার একটি সংখ্যা প্রকাশ করলে সেখানে লোকসান দিতে হয় দ্বিগুন। এভাবে পত্রিকা বের করা সম্ভব নয়। নিয়মিত স্থানীয় পত্রিকাগুলো প্রকাশ না হওয়ায় বস্তুনিষ্ঠ ও জেলার উন্নয়ন-সমৃদ্ধির সংবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পাঠক। আশা করি নিয়মিত পত্রিকা প্রকাশের বিষয়ে সংবাদপত্র মালিকদের পাশে দাঁড়াবে কর্তৃপক্ষ।

দৈনিক সচিত্র নোয়াখালী প্রকাশক-সম্পাদক আমিরুল ইসলাম হারুন হতাশার সুরে বলেন, মাত্র দেড় মাস আগে এক রিম ৮০ গ্রাম প্রিন্টিং কাগজের দাম ছিল ১২৫০ টাকা। বর্তমানে সেই কাগজের দাম বেড়ে হয়েছে ২৭০০ টাকা। পত্রিকার প্লেট প্রতি সিঙ্গেল ১২৫ টাকার স্থলে এখন ১৭৫ টাকা। ছাপা খরচ ১৫০ টাকার স্থলে এখন ২৫০ টাকা।

তিনি বলেন, পত্রিকা প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত কাগজের দাম দ্বিগুন ও অন্যান্য সামগ্রহীর দাম বাড়লেও বাড়েনি সরকারি বিজ্ঞাপন মূল্য। এতে পত্রিকা প্রকাশ করতে অনেকটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই সংকট নিরসনে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।